fbpx

দুই বেলা প্যারাসিটামল এর গল্প

“প্যারাসিটামল দুই বেলা” বিজ্ঞাপনটি মনে আছে কি? যদিও বিজ্ঞাপনটি কোনো ঔষধ এর ছিল না। কিন্তু আমাদের জীবনে ঔষধ এর ব্যাবহার অনেকটা তাই হোয়ে গেছে। জড় আসার ও প্রয়োজন পরে না, শুধু জড় জড় লাগলেএই হল, পারাসিটামল আছে না!! এটা শুধুমাত্র মাত্র পারাসিটামল নয়, যেকোন ঔষধ। কখনো কি ভেবে দেখেছি জীবনে কত পারাসিটামল, নাপা, এনটাসিঁড এবং অন্যান্য ঔষধ খেয়াছি ডঃ এর পরামর্শ মতে এবং পরামর্শ ছাড়া? বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই উত্তরটি হয়ত হবে অগণিত। উত্তরটি এমন ও হতে পারে অসুস্থ হলে ঔষধ খেতে হবে এটাই তো স্বাভাবিক। খুবই যুক্তিসঙ্গত এবং সত্যি। পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখাটা জরুরি যে যেকোনো ঔষধ এরএই কোন না কোন পার্শ্ব প্রতিরক্রিয়া রয়েছ। আপনার ভাই, বোন বা বন্ধুদের মাঝে যিনি ডঃ আছেন উনাকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবেন প্লিজ।

আচ্ছা একবার কি আসলে ভেবে দেখেছি যখন ঔষধ খুব একটা সহজলভ্য ছিল না তখন মানুষ কি করতো? ধরুন আমাদের দাদা, দাদু, নানা, নানু বা এই সময়টার কথা যদি ভাবি, উনারা কি করতেন? ওই সময়টায় ডঃ বা ঔষধ কোনটাএই অনেক বেশি সহজলভ্য ছিল না। উনারা কি চিকিৎসা করাতেন না? নাকি অসুস্থএই হতেন না?

অসুস্থ যে হতেন না এটা তো হতে পারে না। মানুষতো অসুস্থ হবেনএই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেহেতু ডঃ বা ঔষধ এর সহজলভভতা ছিল না, কি করে উনারা সুস্থতা ফিরে পেতেন? উত্তরটি সহজ, আল্লাহর অশেষ নেয়ামত আমাদের প্রকৃতি, গাছগাছালি এবং এর অসংখ্য গুণাবলি। উনাদের কাছে গুগল ছিল না, ছিল জ্ঞান। যা আমরা এখন গুগল করে জেনে নিতে পারি (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সহ) উনারা জেনেছেন উনাদের বাবা মা বা অভিভাবক এর কাছ থেকে। কথা বলছি ভেষজ ঔষধ এবং এর গুণাবলি সম্পর্কে। আমরা হয়ত কিছুটা জানি, আবার অনেকে হয়ত জানি না।

চলুন একটা পরিসংখ্যান দেখে আশা যাক। নিম্নোক্ত টেবিলটি নেয়া হয়াছে “Perceptions of Ayurvedic medicine by citizens in Dhaka, Bangladesh” শীর্ষক একটি গবেষণা ধরমিক জরিপ থেকে। গবেষণাটির লিঙ্ক(https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4767518/)। এখানে দেখানো হয়াছে আয়ুদবেদিক বা ভেষজ চিকিৎসার প্রতি ঢাকায় বসবাসকারীদের ধারনা কেমন।

   

Age

   

15 –34

35 or more

Total

Herbal medicine has less side effects

Strongly disagree

8

0.9%

2

0.3%

10

0.7%

Disagree

15

1.7%

11

1.8%

26

1.7%

Haven’t decided

184

21.1%

80

12.7%

264

17.6%

Agree

490

56.1%

332

52.9%

822

54.7%

Strongly agree

177

20.3%

203

32.3%

380

25.3%

Total

874

100.0%

628

100.0%

1502

100.0%

People would be more likely to use AM if there were more AM clinics

Strongly disagree

8

0.9%

6

1.0%

14

0.9%

Disagree

36

4.1%

19

3.0%

55

3.7%

Haven’t decided

172

19.8%

148

23.6%

320

21.4%

Agree

388

44.6%

250

39.9%

638

42.6%

Strongly agree

265

30.5%

204

32.5%

469

31.4%

Total

869

100.0%

627

100.0%

1496

100.0%

AM build up the body’s own defenses

Strongly disagree

17

2.0%

12

1.9%

29

1.9%

Disagree

30

3.4%

17

2.7%

47

3.1%

Haven’t decided

279

32.1%

176

28.1%

455

30.4%

Agree

396

45.5%

302

48.2%

698

46.7%

Strongly agree

148

17.0%

119

19.0%

267

17.8%

Total

870

100.0%

626

100.0%

1496

100.0%

The more knowledge a person has on AM, the more likely he/she use it

Strongly disagree

13

1.5%

7

1.1%

20

1.3%

Disagree

30

3.4%

31

5.0%

61

4.1%

Haven’t decided

186

21.3%

146

23.3%

332

22.2%

Agree

374

42.9%

249

39.8%

623

41.6%

Strongly agree

269

30.8%

193

30.8%

462

30.8%

Total

872

100.0%

626

100.0%

1498

100.0%

People can be influenced to use AM if friends are using it

Strongly disagree

24

2.8%

13

2.1%

37

2.5%

Disagree

54

6.2%

54

8.6%

108

7.2%

Haven’t decided

193

22.1%

133

21.2%

326

21.7%

Agree

463

53.1%

307

49.0%

770

51.4%

Strongly agree

138

15.8%

120

19.1%

258

17.2%

Total

872

100.0%

627

100.0%

1499

100.0%

AM are not harmful

Strongly disagree

8

0.9%

7

1.1%

15

1.0%

Disagree

50

5.7%

24

3.8%

74

4.9%

Haven’t decided

293

33.6%

165

26.3%

458

30.6%

Agree

376

43.2%

304

48.5%

680

45.4%

Strongly agree

144

16.5%

127

20.3%

271

18.1%

Total

871

100.0%

627

100.0%

1498

100.0%

উপরিউক্ত টেবিলটির সারসংক্ষেপ কিছুটা এরকম দারায়। অর্থাৎ এটা বলা যেতেই পারে, আমরা এখনো মানি বা বিশ্বাস করি ভেষজ বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসার সুফল বা ফলাফল অবশ্যই আছে।

   

বয়স

   

১৫-৩৪

৩৫ বা তার বেশি

ভেষজ ওষুধের কম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে

একমত বা দৃঢ়ভাবে একমত

৭৬.১৩%

৮৫.২%

যদি আরও আয়ুর্বেদিক ক্লিনিক থাকত তবে মানুষের সেটি ব্যবহার করার সম্ভাবনা বেশি ছিল

৭৫.১%

৬৫.৪%

আয়ুর্বেদ দেহের নিজস্ব প্রতিরক্ষা তৈরি করে

৬৩.৫%

৬৭.২%

আয়ুর্বেদে কোনও ব্যক্তির যত বেশি জ্ঞান থাকে, তত বেশি তিনি সেটি ব্যবহার করেন

৭৩.৭%

৭০.০৬%

বন্ধুরা যদি আয়ুর্বেদ ব্যবহার করে তবে অনন্যারা এটি ব্যবহার করতে প্রভাবিত হতে পারে

৭৫.১১%

৬৮.১%

আয়ুর্বেদ ক্ষতিকারক নয়

৫৯.৭০%

৬৮.৮%

আরও কিছু পরিসংখ্যান এর দিকে লক্ষ করা যাক। একটি গবেষণায় দেখা গেসে আমেরিকার প্রায় ৮% মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় শুধু মাত্র ঔষধ এর বিরূপ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে। প্রতি বছর প্রায় ১,০০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য। আশ্চর্যজনক হলে ও সত্যি যে এই সংখ্যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া মানুষের সংখ্যা থেকে ও বেশি। অন্যদিকে, ভেষজ ঔষধ ব্যাবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সংখ্যা এতোই বিরল যে যুক্তরাষ্ট্রর “National Poison Control Centers” এর ডাটাবেস এ “ভেষজ ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া” বলে কোন ক্যাটাগড়িই নেই। তথ্য সংগৃহীত করা হয়েছে “Journal of applied Pharmaceutical Science” এর “Concerns regarding the safety and toxicity of medical plants- An Overview” শীর্ষক আর্টিকেল থেকে। আর্টিকেলটির লিঙ্ক-https://www.researchgate.net/profile/DrPHILOMENA_George/publication/221673687_Concerns_regarding_the_Safety_and_Toxicity_of_Medicinal_Plants/links/02e7e518218ab062a3000000/Concerns-regarding-the-Safety-and-Toxicity-of-Medicinal-Plants.pdf

এ পর্যায় এসে অনেকেরই প্রশ্ন জাগতে পারে যে তাহলে কি ঔষধ সেবন করা উচিত নয়? সেটাও তো সম্ভব নয়। সঠিক। আমাদের উদ্দেশ্য ঔষধ সেবন নিরুৎসাহিত করা নয়। বা ঔষধ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ রূপে ভেষজ চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল হওয়াও নয়। আমদের প্রথম উদ্দেশ্য সুস্থ থাকা, দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, অসুস্থ হলেও ঠিক ততটুকু পরিমাণ ঔষধ সেবন যতটুকু প্রয়োজন। তৃতীয় এবং অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য আমরা যা ব্যাবহার করছি বা খাচ্ছি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সেটি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যদের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি করা।

আমরা বর্তমানে ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি। আমাদের হাতের নাগালে হাজার হাজার পণ্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে তথ্যও। আমরা কি তথ্যের এই সহজলভ্যতার সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি? কোন পণ্য ব্যাবহারের আগে আমরা কি একটু গুগল করে দেখি পণ্যটির উপাদান কি কি এবং এসব উপাদানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি? ধরে নেয়া যাক, অনলাইনে একটি পণ্যও অর্ডার করা হল। হয়তবা ত্বক উজ্জ্বলকারী কোন ক্রিম। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্যটি কাজ ও করছে। ঠিকঠাক ৭-১০ দিন এর মধ্যেই ফলাফল দেখাও যাচ্ছে। পণ্যটি খুবই ভাল, বলতেই হবে। প্রশ্ন বা সচেতনার বিষয়টা এখানেই। পণ্যটি ব্যাবহার এর আগে আমরা কি ইনগ্রেডিঅ্যান্টস বা উপাদানগুলি দেখে নিয়াছিলাম? আমরা কি জানি এই উপাদানগুলির কোন বিরূপ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না? বা থাকলেও কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে? আমরা কি নিশ্চিত আজ যে পণ্যটি ৭-১০ দিনের মধ্যেই ত্বক উজ্জ্বল করে দিচ্ছে, সেই একই পণ্যটি ভবিষ্যতে গিয়ে কোন কঠিন রোগ এর কারণ হয়ে দাঁড়াবে না?? এখানেই দরকার সচেতনতা। আসুন সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি।

দেখুন, জানুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *